বিবরণ:

পৃথিবীর বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে গেলে শুধুমাত্র বালিয়াড়ি শোভিত সুবিশাল সৈকত আর দিগন্ত বিস্তৃত বঙ্গোপসাগরের অপরূপ দৃশ্যই দেখা যায় না। পাহাড়, ঝর্ণা, সাগর ও প্রকৃতির অপূর্ব রূপবৈচিত্রের সমাহার এই কক্সবাজার। প্রকৃতিপ্রেমী দর্শনার্থীদের কাছে মূল সৈকত ছাড়াও আশেপাশের অসংখ্য স্থান দিনদিন ভ্রমণ উপযোগী আকর্ষণীয় স্থানরূপে পরিচিতি লাভ করছে। তেমনি একটি জায়গার নাম হলো কক্সবাজারের রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নে অবস্থিত এশিয়া মহাদেশের সর্ববৃহৎ নারিকেল বাগান। ১৯৮২ সালে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় দেশব্যাপী নারিকেল চাষাবাদ বৃদ্ধি, নদী ও সাগরের ভাঙ্গন রোধের লক্ষ্যে প্রায় আড়াইশ একর জমির উপর ৬০০ শ্রীলংকার কিংটন ও মালেশিয়ার ডোয়ারব জাতের উচ্চফলনশীল চারা রোপন করা হয়। পরবর্তী এক দশকের মধ্যে বাগানটি পরিপূর্ণতা লাভ করে। প্রতিবছর এখান থেকে ৮০ থেকে ৯০ হাজার নারিকেল উৎপাদন করা হয়। পাশাপাশি শাখা কলম দ্বারা বিভিন্ন প্রজাতির ফল ও ঔষধি গাছের চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। রাজারকুল অঞ্চলে বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এই বিশাল নারিকেল বাগান চারিদিকে সবুজের সমারোহ বিস্তার করে সকলকে যেন হাত বাড়িয়ে কাছে ডাকছে।


আকর্ষণ:

রামুর বুক যেন এক বিশাল ক্যানভাস। প্রকৃতি তাতে এঁকেছে চোখ জুড়ানো ছবি। নৈসর্গিক সৌন্দর্য মন্ডিত রামু উপজেলাটি ইতিহাস খ্যাত একটি স্থান। মুঘল সাম্রাজ্যের শাসন, গৌতম বুদ্ধের আগমনে বোদ্ধ ধর্মের সম্প্রসারণ, রামকোটের রামচন্দ্র ও সীতার মিলনস্থান হিসেবে কথিত রামু উপজেলায় তাই ঐতিহাসিক নিদর্শন চোখে পড়ে বেশি।


কি করতে হবে:

রাজারকুলের আইসোলেটেড নারিকেল বাগান ছাড়াও আপনি চাইলে রামু উপজেলার হিমছড়ি ঝর্ণা, হিমছড়ি জাতীয় উদ্যান, শ্রী শ্রী রামকোট তীর্থ ধাম, রাংকূট বৌদ্ধ বিহার, লামার পাড়া বৌদ্ধ বিহারম উত্তর মিঠাছড়ি বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র ১০০ ফুট শয্যা বিশিষ্ট বৌদ্ধ মূর্তি, রামু সীমা বিহার, লাল চিং/ সাদা চিং, রামু জাদী পাহাড়, রামু রাবার বাগান, নারিকেল বাগান ইত্যাদি স্থান ভ্রমন করতে পারেন।




কোথায় খাবেন?
রামু উপজেলার পেঁচার দ্বীপ, চৌমহনি, চেরাংঘাটা, ঈদগড় ও উপজেলা গেইটে সুলভ মূল্যে সুস্বাদু খাবার পাওয়া যায়। আপনি চাইলে কক্সবাজারেও খাওয়াদাওয়া করতে পারেন। কক্সবাজারের ডলফিন মোড়ে শালিক রেস্তোরাতে স্বল্পমূল্যে নান্দনিক পরিবেশে সুস্বাদু খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে কাসাব্লাঙ্কা বিচ ক্যাফে, বিচ প্ল্যানেট, মারমেইড ক্যাফে মেরিন ড্রাইভ, রুপসী বাংলা রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি। 

 

একটুখানি কেনাকাটা
ভ্রমনের আনন্দকে পরিপূর্ণ করতে হালকা কেনাকাটা কিংবা বিশেষ স্মৃতি চিহ্ন সংগ্রহ করতে পারেন। কক্সবাজারের কলাতলী বীচ পয়েন্ট থেকে শামুক ঝিনুকের খোলস, শঙ্খ, মালা, ঘরসাজানোর জিনিসপত্র, টুপি, জামা, জুতা ইত্যাদি কিনতে পারেন। এছাড়াও শুটকি, চিংড়ি, কাকড়া, অক্টোপাস ভাজা খেয়ে দেখতে পারেন। সঙ্গে করে নিয়ে আসতে পারেন বিভিন্ন রকম সুস্বাদু আচার, চিপস কিংবা চকলেট। আপনার যদি বাগান করা কিংবা বৃক্ষরোপনের আগ্রহ থাকে তাহলে অবশ্যই রামুর নারিকেল বাগান থেকে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের উন্নত মানের বীজ কিংবা চারা এনে বাড়িতে লাগাতে পারেন।