Description:

আপন শহর যশোর। তবে পড়াশুনার সূত্রে আপন নিবাসে আজ অতিথি। বিশ্ববিদ্যালয়ে একটূ ছুটি পেলেই ছুটে আসি দ্রুত বিক্ষেপে। সেবার সেমিস্টার ব্রেকে একটা লম্বা ছুটিতে এসেছিলাম। বাড়িতে থাকাকালীন বেশিরভাগ সময় কাটে স্কুলের বন্ধুদের সাথে নয়ত নদীর পাশে বসে প্রকৃতির। বাড়িতে আমার ছোট অনেকগুলো চাচাতো ভাই-বোন আছে। নদীর পাড়ে ওরাই আমাকে সঙ্গ দেয়। বেশ ভাল সময় কেটে যায়।

সেদিন, নদীর পাড়ের শান্ত-শ্যামল গাছপালা আর পাখির কলকাকলীতে মত্ত এক পড়ন্ত বিকালে বসে ওদের সাথে গল্প করছিলাম। কথায় কথায় একজন বলে উঠল, “ভাইয়া চল না কোথাও ঘুরে আসি”। আমি আবার ভাবলাম কোথায় আবার বেড়াতে যাব। ও নিজেই মনিরামপুরের ভাসমান ব্রিজ দেখতে যাবার প্রস্তাব দিল।

ভ্রমনকে যে নিঃশ্বাস নেয় এবং ভ্রমনান্দ যাকে স্বর্গীয় সুবাস দেয় সেই- আমি কি এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করতে পারি?


Tips:

টিকেট ও আনুসাঙ্গিক খরচাপাতি:

দেশের বৃহত্তম এই বঙ্গবন্ধু ভাসমান সেতুতে আরোহনের জন্য আপনাকে ৫ টাকা দিয়ে টিকেট কাটতে হবে।মূলত এই টাকা সেতুটির রক্ষনাবেক্ষন ও মেরামতের কাজে ব্যয় করা হয়ে থাকে। সেতুটির পাশে বেড়াতে আসা দর্শনার্থীদের গাড়ি পার্কিংয়ের সুব্যাবস্থা যার জন্য কোনো পয়সা দিতে হয়না। নৌকায় চড়ার জন্য নির্ধারিত ফি দেখিনি আমি। নিজের ইচ্ছামতো মাঝির সাথে দরদাম ঠিক করে নিতে হয়।


History:

ভাসমান ব্রিজ কোথায় অবস্থিতঃ নামকরন ও অন্যান্য:

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ঝাপা গ্রামে দেশের দীর্ঘতম এই ভাসমান সেতুটি অবস্থিত। যার নামকরন করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু ভাসমান সেতু। পরবর্তিতে যশোর জেলা প্রসাশনের সহায়তায় আরেকটি ভাসমান সেতু নির্মান করা হয় যা জেলা প্রসাশন ভাসমান সেতু নামে পরিচিত।


What To Do:

ভাসমান সেতুর পটভূমিঃ কি কি দেখার আছে:

ভাসমান এই সেতুর পটভূমি জানা থাকলে কি কি দেখার আছে তা বুঝতে সহায়ক হবে। এই ভাসমান ব্রিজ শুধুই কি দেখার জন্য নাকি এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য সেটা জানা থাকলে বুঝতে পারবেন একতার বল কতটুকু, সামান্য গ্রামবাসীর ক্ষমতা কতটুকু আর তাদের উদ্দিপনার উৎসই বা কোথা থেকে আসে। আর তা জানলে নিঃসন্দেহে আপনার আত্নচেতনাবোধ জাগ্রত হয়ে আপনার অবচেতন মনকে উদ্দিপ্ত করে তুলবে।

যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলা। আয়তনের দিক দিয়েও তা বিশাল, দেশের ২য় বৃহত্তম উপজেলা এটি। সেই বিশাল আয়তনের উপজেলার আরেকটি বিশালত্ব হলো তার জলাধার। দেশের সর্ববৃহৎ এই জলাধারটি(বাওড়) উপজেলার ঝাপা নামক গ্রামে অবস্থিত। গ্রামের উপরেই নামকরন করা হয়েছে ঝাপা বাওড়। এ গ্রামে প্রায় ১৫ হাজার লোকের বসতি। গ্রামের মাঝখানে বিশাল এই বাওড় তাই তাদের যোগাযোগের এক বিশাল অন্তরায় ছিল এটি। মূলত সেই সমস্যার হাত ধরেই সেতুটির গোড়াপত্তন।

কিন্তু আসল কথা হলো, বিশাল প্রশস্ত এই বাওড়ে কিভাবে সেতুটি বানানো সম্ভব হলো? সরকারী কোনো প্রকল্পের মাধ্যমে, চায়না কিংবা জাপানী প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছে নাকি অন্য কিছু ?

ভাসমান এ সেতুর বৈচিত্র ঠিক এই জায়গায়। না কোনো সরকারী সহায়তায় নয়- ঝাপা গ্রামের সাধারন খেটে খাওয়া মানুষের দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম ও একতাবদ্ধ প্রচেষ্টার ফসল এটি।

দেশের বৃহৎ এই জলাধার থেকে সরকার যখন বছরান্তে অর্ধকোটি টাকার খাজনা পেয়েও গ্রামবাসীর কষ্ট লাঘব করা থেকে বিরত থাকে, তখন গ্রামবাসীরা গঠন করে- ঝাপা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন এবং এর মাধ্যমে নিজেদের অর্থ, মেধা ও শ্রম ব্যয়পূর্বক সেতুটি তৈরি করে।

বলাই বাহূল্য, এই সেতু ও জলাধারের সৌন্দর্য অবলোকনের জন্য ঘুরতে যাওয়া অপেক্ষা সাধারন গ্রামবাসীর বিশাল অর্জনের প্রত্যক্ষ সাক্ষীরূপে নিজেকে স্থাপন করা অধিকতর শ্রেয়। গভীর থেকে চিন্তা করলে এই কর্মযোগ্য মোটেও নগন্য মনে হবেনা তা এক বিশাল অর্জনকে স্বরন করিয়ে দেবে। একটু চিন্তা করলে হয়ত আপনার অবচেতন মন একজন সাধারন বাঙালী মানুষকে অসাধারন রূপে সরাসরি অনুমোদন দিয়ে দিবে। আরেকটু গভীরে গেলে হয়ত তা জাতীয় সত্বাবোধে অনুপ্রেরনা দিবে।

এসব ছাড়া আর কি কি দেখার ও উপভোগ করার আছে।

  • দেশের বৃহত্তম দৃষ্টিনন্দন দুইটি ভাসমান সেতু।
  • দেশের সর্ববৃহৎ বাওড়।
  • পড়ন্ত বিকেলে বাওড়ের স্বচ্ছতোয়া জলে মনোরম এক নৌকা ভ্রমনের দারুন অভিজ্ঞতা।
  • মিঠাপানির এই বাওডের সুন্দর পানিতে গোসল ও সাতার।
  • বিকাল বেলার ফটোগ্রাফি।