Description:

একজন পর্যটকের আকর্ষন বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। কোনো পর্যটকদের কাছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভালো লাগে আবার কারও কাছে নির্মানশিল্প। বিভিন্ন দেশ , বিভিন্ন শহর গুলো বিভিন্ন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং অসাধারন নির্মানশিল্প দিয়ে সমৃদ্ধ। বাংলাদেশেও কিছু অসাধরন স্থাপত্যশিল্প বা নির্মানশিল্প রয়েছে যা পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। তার মধ্যে একটি হলো ঢাকার কার্জন হল। এটি বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও জীব বিজ্ঞান অণুষদের কিছু শ্রেনীকক্ষ ও পরীক্ষার হল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

অবস্থানঃ
কার্জন হল ঢাকায় অবস্থিত। শাহবাগ থেকে রিক্সাতে করে যেতে ২০ মিনিট লাগবে। এছাড়াও ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে যেকোনো যান্ত্রিক পরিবহনে করে আসা যাবে কারন কার্জন হল খ্যাত একটি জায়গা।


History:

ফেব্রুয়ারি ১৯, ১৯০৪ সালে ভারতের তৎকালীন ভাইসরয় ও গভর্নর জেনারেল - লর্ড কার্জন এটির ভিত্তি-প্রস্তর স্থাপন করেন। বঙ্গভঙ্গ ঘোষিত হওয়ার পর প্রাদেশিক রাজধানী হিসেবে ঢাকাকে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে রমনা এলাকার যেসব দালানগুলোর গুরুত্ব বৃদ্ধি পায় তার মধ্যে কার্জন হলের স্থান হচ্ছে অন্যতম। দানী লিখেছেন, 'কার্জন হল নির্মিত হয়েছিল টাউন হল হিসেবে। কিন্তু শরীফউদ্দীন আহমদ এক প্রবন্ধে দেখিয়েছেন এ ধারণাটি ভুল। এটি নির্মিত হয় ঢাকা কলেজের পাঠাগার হিসেবে এবং নির্মাণের জন্য অর্থ প্রদান করেন ভাওয়ালের রাজকুমার। ১৯০৪ সালের ঢাকা প্রকাশ লিখেছিল, "ঢাকা কলেজ নিমতলীতে স্থানান্তর হবে। এই কলেজে একটি পাঠাগার নির্মাণের জন্য প্রিন্সিপাল ডাক্তার রায় মহাশয় মুখিয়ে ছিলেন। বড়লাট বাহাদুরের আগমন উপলক্ষে ভাওয়ালের রাজকুমারগণ এ অঞ্চলে লর্ড কার্জন বাহাদুরের নাম স্বরনীয় করার জন্য 'কার্জন হল' নামে একটি সাধারণ পাঠাগার নির্মাণের জন্য দেড় লক্ষ টাকা দান করেছিল। ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ হলে, ঢাকা কলেজের ক্লাস চলে কার্জন হলে। পরবর্তী সময়ে ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হলে কার্জন হল অন্তর্ভুক্ত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের জন্য, যা আজও ব্যবহৃত হচ্ছে।

ভাষা আন্দোলন ও কার্জন হলঃ
ভারত বিভক্তের পর ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান গঠিত হয় এবং এটির রাষ্ট্র ভাষা উর্দু নির্বাচন করা হয়। ১৯৪৮-১৯৫৬ সালে বাংলা ভাষা আন্দোলনের সময় কার্জন হল ছিল বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠানের অবস্থান। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের গণপরিষদটি সমাবেশকে সম্বোধন করার জন্য কেবল উর্দু ও ইংরেজীকেই ভাষা হিসাবে বেছে নিয়েছিল, যেহেতু সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ উর্দুতে কথা বলত না, বাংলা ভাষায় কথা বলত তাই এই সমাবেশে এই প্রতিবাদ করা হয়েছিল । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গণপরিষদের কর্মকাণ্ডে সাথেসাথে আপত্তি জানিয়েছিল, এবং কার্জন হলেই তারা রাষ্ট্রভাষা নীতি বিরোধিতা ঘোষণা করেছিল।


Attractions:

স্থাপত্যশিল্পঃ
১৯০৪ সালে ভারতের ভাইসরয় লর্ড জর্জ নাথানিয়েল কার্জন এই হলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং তারই নামানুসারে এ ভবনের নাম হয় কার্জন হল। এ ভবনটিতে সংযোজিত হয়েছে ইউরোপ ও মুগল স্থাপত্য রীতির দৃষ্টিনন্দন সংমিশ্রণ নিয়ে। আংশিকভাবে মুসলিম স্থাপত্যরীতিও অনুসরণ করা হয় এটির স্থাপত্যে। ভবনের বহির্পৃষ্ঠে কালচে লাল রঙের ইট ব্যবহার করা হয়েছে। আধুনিক স্থাপত্য বিদ্যা এবং মোগল কাঠামোর সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে এর খিলান ও গম্বুজগুলো।

কেন যাবেন কার্জন হলেঃ
কার্জন হল প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্য বহন করে। এটির ভিতরের এবং বাহিরের পরিবেশ খুবই মনরোম। ভিতরের অসাধরন স্থাপ্ত্যশিল্প যেকোনো পর্যটককে মুগ্ধ করবে। একই সাথে বাহিরের বাগানের বিভিন্ন রকমের ফুল চোখকে দিবে তৃপ্তি এবং ফুলগুলোর সুগন্ধে মন হবে প্রফুল্ল। কার্জন হলের পাশে রয়েছে একটি পুকুর যা কার্জন হলের সৌন্দর্যকে আরও বৃদ্ধি করে দেয়।




উপসংহারঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই স্থাপত্যটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থিদের ছাড়াও অন্যান্য দর্শনার্থীদের জন্যও একটি মন্মুগ্ধকর স্থান এবং কার্জন হলে প্রাঙ্গন সবসময় সাধারন মানুষদের আনাগোনায় মুখরিত থাকে। আড্ডা দেয়ার জন্যে খুবই উত্তম একটি স্থান এটি। এখানে প্রতিদিনই বিভিন্ন লোকেরা আড্ডা দিয়ে থাকে। প্রতিদিনই বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সমাগন হয় এখানে।