RANGAMATI ঝরনা

ধুপপানি ঝর্ণার শুভ্র সৌন্দর্য!

Written by admin

প্রকৃতির মনমাতানো সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি দুঃসাহসী ট্রেকিং অভিযানের স্বাদ গ্রহণ করতে চাইলে বেঁছে নিতে পারেন রাঙামাটির ধুপপানি ঝর্ণাটিকে। রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নের ওড়াছড়িতে রয়েছে অপরূপ এই শ্বেত পানির ঝর্ণা। ঝর্ণার উৎসস্থল ধুপপানিপাড়ায় বসবাসকারী তঞ্চঙ্গ্যা উপজাতিদের ভাষায় ধুপ শব্দের অর্থ সাদা আর পানি হলো ঝর্ণার পানি। অর্থাৎ ধুপপানি বলতে সাদা পানির ঝর্ণাকে বোঝায়। ১৫০ মিটার উঁচু থেকে তীব্রবেগে ঝরে পড়া ঝর্ণার স্বচ্ছ পানির শুভ্র সৌন্দর্যের জন্যই এই ঝর্ণাকে ধুপপানি নামকরণ করা হয়। 

ধুপপানি ঝর্ণা সম্পর্কে আগে খুব কম মানুষই জানতো। ২০০০ সালের দিকে এক বৌদ্ধ সন্ন্যাসী ধ্যান করার জন্য এই স্থানটিকে বেঁছে নেন। সাধু দর্শন এবং তাঁর সেবা করার উদ্দেশ্যে স্থানীয় মানুষদের এখানে আনাগোনা শুরু হয়। পরবর্তীতে লোকমুখে এই স্থানটির পরিচিতি ছড়িয়ে পড়ে। এখনও প্রতি রবিবারে বৌদ্ধ ভিক্ষু তাঁর সাধনা স্থান থেকে ঝর্ণার নিচে নেমে আসেন এবং স্থানীয় মানুষদের পক্ষ থেকে দেয়া আহার গ্রহণ করেন। প্রায় দুই কিলোমিটার দূর থেকে ধুপপানি ঝর্ণার পানি আছড়ে পড়ার শব্দ শুনতে পাওয়া যায়। ঝর্ণার পানি পান করতে আশপাশ থেকে হরিণ, বুনো শুয়োর, বনবিড়াল, ভাল্লুক এমনকি বাঘও আসে। 

কিভাবে যাবেন?

ঢাকা থেকে রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই এলাকায় আসার অনেকগুলো পরিবহন সেবা চালু আছে। যেমনঃ শ্যামলী, সৌদিয়া, এস আলম পরিবহন, হানিফ পরিবহন ইত্যাদি। নন এসি বাসের ভাড়া জনপ্রতি ৫৫০ টাকা। এসি বাসের ভাড়া জনপ্রতি ১০০০ টাকা থেকে ১৪০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। ঢাকা থেকে যাওয়ার আগে নিজের কয়েক কপি ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র কিংবা জন্মনিবন্ধনের কয়েক কপি ফটোকপি অবশ্যই নিয়ে নিতে হবে। বিলাইছড়ি, আলিখিয়াং সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। নতুবা আপনাকে ভ্রমণের অনুমতি দিবেন না তারা। কাপ্তাই লঞ্চঘাট থেকে একটা লোকাল ট্রলারে জনপ্রতি ৫৫ টাকা করে  অথবা ১০০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে ট্রলার রিজার্ভ করে নিয়ে বিলাইছড়ি যেতে পারেন। বিলাইছড়ি যেতে সময় লাগবে ২ থেকে ২:৩০ ঘন্টা। লোকাল ট্রলার কাপ্তাইঘাট থেকে সকাল ৮:৩০ টায় প্রথম ছাড়ে এবং ১ বা ১:৩০ ঘন্টা পর পর একটা করে ছেড়ে যায়। বিলাইছড়ি বাজারে খাবার খেয়ে নিতে পারেন। বিলাইছড়ি থেকে আরো ২ ঘন্টা পাহাড়ি ঢলের নদী পার হয়ে উলুছড়ি পর্যন্ত যেতে হবে। উলুছড়ি থেকে অবশ্যই একজন গাইড নিয়ে নিন, গাইড ফি ৫০০ টাকা (আলোচনা সাপেক্ষ্যে)।

 হালকা নাস্তা করে নিবেন এবং সাথে শুকনো খাবার নিয়ে নিবেন। উলুছড়ি থেকে কোষা নৌকায় পাহাড়ি ঢলের পানি পাড় হবেন। ২০ মিনিটের মত নৌকায় যাওয়ার পর এবার হাঁটার পালা। ২:৩০ ঘন্টা ট্রেকিং করে ধুপপানি পাড়া পৌঁছে যাবেন। ট্রেকিং এর জন্য অবশ্যই ভালো গ্রিপের ট্রেকিং সু পড়তে হবে। পথে অনেকগুলো ঝিরি পার হয়ে যেতে হবে। সাথে থাকবে হৃদয় ভোলানো প্রাকৃতিক দৃশ্য। ধুপপানি পাড়া থেকে আর মাত্র ২০০ মিটার নিচে নামলেই সেই কাঙ্ক্ষিত ধুপপানি ঝর্ণা। অনিন্দ্য সৌন্দর্যের এই স্থানে পৌঁছানো মাত্রই এক মুহূর্তে যাত্রা পথের সকল ক্লান্তি ধূলায় মিশে যায়। এক স্বর্গীয় তৃপ্তি এসে ভর করে মনে। 

কোথায় থাকবেন?

সেখানে থাকার যদি কোনো পরিকল্পনা না থাকে তাহলে অবশ্যই কাপ্তাই থেকে আপনাকে সকাল ৬ টার মধ্যে রওনা দিতে হবে। পর্যটকদের জন্য বিলাইছড়িতে রাতে থাকার ব্যবস্থা আছে। ট্রলার রিজার্ভ করে গেলে হাসপাতাল ঘাটে নেমে নিরিবিলি বোর্ডিংয়ে থাকতে পারেন। এখানে খাবার ব্যবস্থাও আছে। সিঙ্গেল রুম ভাড়া ৩০০ টাকা এবং ডাবল রুমের ভাড়া ৫০০ টাকা। এছাড়াও বিলাইছড়িতে আরো অনেক বোর্ডিং আছে। এর যেকোনো একটিতে আপনি রাত্রিযাপন করতে পারেন।

Leave a Comment

Our new website now under construction, It will coming soon. Do you like to get notify when the new version will be on live?

Subscribe for notifications.

You have successfully subscribed to the newsletter

There was an error while trying to send your request. Please try again.

Bangladesh Tourism Guide will use the information you provide on this form to be in touch with you and to provide updates and marketing.