চট্টগ্রাম

হরিণমারা ঝর্ণা

Written by admin

ট্রেকিং এর একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে ভীতি কাটিয়ে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য আপনি হরিণমারা ঝর্ণাটিকে বেঁছে নিতে পারেন। খুবই সহজ যাত্রাপথে শান্ত, স্নিগ্ধ প্রকৃতির কোলে নিজেকে বিলিয়ে দেয়ার জন্য আদর্শ একটি স্থান চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে অবস্থিত এই হরিণমারা ঝর্ণা। তিনটি ঝর্ণা এবং নীলাম্বর লেকের সৌন্দর্যের অপূর্ব মিশ্রণ দেখতে পাওয়া যায় এই স্থানে। পাহাড়ের গা বেয়ে ঝর্ণার সবুজ ঠান্ডা পানি সরাসরি এসে নিচের গহ্বরে পরে। ঘন গাছপালা এবং পাথরের কোণের জন্য ঝর্ণাটি সামনে থেকে অবরুদ্ধ হয়ে গিয়েছে। তাই দূর থেকে ঝর্ণার পানি ঝড়ে পরার দৃশ্য দেখা যায় না। একসময় ঝর্ণাটি সব মৌসুমেই পানিতে পূর্ণ থাকত এবং ঝর্ণার কুমে পানি পান করার জন্য প্রচুর হরিণ এখানে আসতো। হরিণ শিকারিরা এখানে ফাঁদ পেতে হরিণ শিকার করতো। অত্যন্ত নির্মম একটি ঘটনা তবুও লোকমুখে হরিণমারাই স্থানটির নাম হিসেবে পরিচিতি লাভ করলো। মানুষের নির্মম আচরণের জন্য এখানে আর হরিণদের তেমন দেখা যায় না। হরিণমারা ঝর্ণাটিকে হরিণমারা কুণ্ড ঝর্ণাও বলা হয়। 

হরিণমারা ট্রেইলে একইসাথে তিনটি ঝর্ণা ঘুরে আসা যায়। হরিণমারা, হাঁটুভাঙ্গা আর সর্পপ্রপাত ঝর্ণা। সর্পপ্রপাত ঝর্ণার সাথেই আছে বাওয়াছড়ার মুখ। বাওয়াছড়ার লেকটিই মূলত অভুতপূর্ব সেই নীলাম্বর লেক। শহুরে জীবনের যত অবসাদ সব এখানে এসে ধুয়ে মুছে নেয়া সম্ভব।

কিভাবে যাবেন?

প্রথমে ঢাকা থেকে সড়ক অথবা রেলপথে চট্টগ্রামের মিরসরাই আসতে হবে। ট্রেনে গেলে মেইল ট্রেনে করে সীতাকুন্ড বাজার এসে এখান থেকে বাসে ছোট কমলদহ বাজারের পরে বাইপাসে এসে নামতে হবে। আর বাসে আসলে সরাসরি ছোট কমলদহ বাইপাসের শুরুতে নেমে পূর্ব দিকে হাটা শুরু করলেই পাবেন রেল লাইন। রেললাইন থেকে হাতের ডানে ২০ থেকে ২৫ হাত দূরে একটি মাটির রাস্তা দেখতে পাবেন পাহাড়ের দিকে চলে গেছে। সেই রাস্তা ধরে সামনে এগুলেই নীলাম্বর লেক। এরপর পাহাড়ি পথ ধরে এগিয়ে গেলে পাহাড় শেষে ঝিরি যেখানে মিশেছে সেখান থেকে শুরু হয়েছে ঝিরি পথ। এই ঝিরি পথ ধরে কিছুটা এগুলেই ঝিরি দুইভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। হাতের বাম দিকে গেলে হরিণমারা ঝর্ণা আর বাম দিক ধরে একটু সামনে এগিয়ে গেলে ঝিরিটা আবারো দুইভাগে বিভক্ত হয়ে যাবে। আর এবার ডান দিকে গেলে সামনে পড়বে সর্পপ্রপাত ঝর্ণা এবং বাম দিকে হাঁটুভাঙ্গা ঝর্ণা। সবগুলো ঝর্ণাই ৫/৭ মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত। 

কোথায় খাবেন?

এই অঞ্চলে খাবারদাবারের ভালো কোনো ব্যবস্থা নেই। বাজারের পাশে ছোট খাটো কিছু হোটেল আছে। সকালের নাস্তার জন্য তন্দুর রুটি আর গুলগুলা ছাড়া আর কিছু পাওয়া যায় না। সুজি, চিনি আর নারকেল দিয়ে বানানো হয় এই গুলগুলা। দুপুরের খাবারের জন্য সীতাকুন্ডের বিখ্যাত ড্রাইভার হোটেলটিকে বেঁছে নিতে পারেন।

কোথায় থাকবেন? 

হরিণমারা ঝর্ণাটি একদিনে ঘুরে চলে আসার মতো সহজ এবং সুন্দর একটি স্থান। তবে অনেকেই সীতাকুন্ডের সহস্রধারা, সুপ্তধারা, খইয়াছড়া, মহামায়া লেকে ক্যাম্পিং বা কায়াকিং করে থাকেন। এছাড়াও আশেপাশের দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখার পরিকল্পনা থাকলে চট্টগ্রাম শহরের হোটেলগুলোর কোনো একটিতে থাকতে পারেন। নিচে কয়েকটি হোটেলের নাম, ঠিকানা এবং যোগাযোগের ঠিকানা দেয়া হলো:

১। হোটেল গোল্ডেন ইন

ঠিকানাঃ ৩৩৬, স্টেশন রোড, চট্রগ্রাম

ফোনঃ ০৩১-৬১১০০৪

২। এশিয়ান এসআর হোটেল

ঠিকানাঃ ২৯১, স্টেশন রোড, চট্রগ্রাম

ফোনঃ ০৩১-২৮৫০৩৪৬-৮

৩। হোটেল পার্ক

ঠিকানাঃ ৬২৭, ডিটি রোড, কদমতলি, চট্রগ্রাম

ফোনঃ ০১৮১৯৩৮৮০১১

৪। হোটেল ল্যান্ডমার্ক

ঠিকানাঃ ৩৭২, শেখ মুজিব সড়ক, আগ্রাবাদ, চট্রগ্রাম

ফোনঃ ০৩১-৮১৩৫৯৮/৭২৭২৯৯

৫। হোটেল ড্রিম ইন্টারন্যাশনাল লিঃ

ঠিকানাঃ স্টেশন রোড, চট্রগ্রাম

ফোনঃ ০১৮২৯-৪৪০০৪৪

Leave a Comment

Our new website now under construction, It will coming soon. Do you like to get notify when the new version will be on live?

Subscribe for notifications.

You have successfully subscribed to the newsletter

There was an error while trying to send your request. Please try again.

Bangladesh Tourism Guide will use the information you provide on this form to be in touch with you and to provide updates and marketing.