ঢাকা

মিনি কক্সবাজার , মৈনট ঘাট

Written by admin

নদীমাতৃক আমাদের এই বাংলাদেশের নদী কেন্দ্রিক প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে মৈনট ঘাট এর কোনো বিকল্প নেই। ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার পশ্চিম প্রান্তে বয়ে যাওয়া পদ্মা নদীর কোল ঘেঁষে রয়েছে এই মৈনট ঘাট। এখানে যত দূর চোখ যায় শুধু পদ্মার উত্তাল ঢেউয়ের খেলা দেখা যায়। এ যেন সাধ্যের মধ্যে এবং অল্পসময়েই সমুদ্র দর্শন। প্রায় দেড় কিলোমিটার নদীর পাড় জুড়ে চিকচিক বালুকা রাশি আর রূপোর মত পানির ঝলমলে দৃশ্য দেখে মনে হয় যেন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে দাঁড়িয়ে আছি। তাইতো মৈনট ঘাটকে মিনি কক্সবাজারও বলা হয়। ওপাড়ে রয়েছে ফরিদপুরের চর ভদ্রাসন। স্পীডবোট কিংবা ট্রলারে করে চরভদ্রাসনে গেলে গ্রাম্য জীবনের কোমলতার স্পর্শও পাওয়া যায়। 

কি দেখবেন? 

দোহারের মিনি কক্সবাজার ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে আদর্শ সময় হচ্ছে বর্ষাকাল। স্পীড বোট কিংবা ট্রলারে চেপে পদ্মার উত্তাল ঢেউয়ে ঘুরে বেড়ানো এবং ফরিদপুর অঞ্চলের গ্রামীণ জীবনের স্বাদ আস্বাদন করা যাবে। স্পীড বোটে মৈনট ঘাট থেকে ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে যেতে খরচ হবে জনপ্রতি ১৬০ টাকা। ট্রলারে ঐপাড়ে যেতে একজনের খরচ হবে মাত্র ৮০ টাকা। এছাড়া ৫০০-৬০০ টাকায় একঘন্টার জন্য নৌকা রিজার্ভ করে পদ্মার বুকে ভেসে বেড়ানো যায়। ২০ মিনিটের জন্য স্পীড বোট রিজার্ভ করে নদীতে ভেসে বেড়াতে চাইলে গুনতে হবে ২০০০ টাকা। আর ট্রলারে খরচ হবে ঘন্টায় ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা। অনেকে মিলে দল বেঁধে গেলে পছন্দ মতো যেকোনো একটা বাহন বেঁছে নিয়ে পদ্মার বুকে কিছুক্ষণের জন্য হারিয়ে যেতে পারেন।

গ্রীষ্মের সময় এখানে বাদামের চাষ হয়, ঘাটের একপাশ জুড়ে বিস্তীর্ণ ক্ষেত থাকে। শীতকালেও পদ্মার শান্ত স্থির কোমল রূপবৈচিত্র দেখতে পাওয়া যায়। এছাড়াও একদিনের এই ট্যুরে আপনি চাইলে লক্ষ্মীপ্রসাদের পোদ্দারবাড়ি দেখে আসতে পারেন। এছাড়াও নবাবগঞ্জের কলাকোপায় অবস্থিত জজবাড়ি, উকিলবাড়ি, কোকিলপ্যারি দালান, আন্ধার কোঠা, আনসার ক্যাম্প, খেলারাম দাতার বাড়ি ইত্যাদি দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ করতে পারেন।

সতর্কতা

মিনি কক্সবাজার নাম হলেও এটি মোটেও কোনো সমুদ্র সৈকত নয়। সত্যিটা হলো এটি একটি নদীর চর। সমুদ্র সৈকতের মত পানির নিচে মাটি ক্রমশ ঢালু হয়ে নেমে যায়নি। এখানে পাড় একেবারে খাঁড়া নিচে নেমে গেছে। কোনো কোনো যায়গায় পাড় ভেঙ্গে গেছে। সে কারণে বেশি গভীরে নামলে নিচে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। গত কয়েক বছরে প্রচুর মানুষ মৈনটে নদীর পানিতে গোসল করতে নেমে মারা গেছেন। এজন্য দক্ষ সাঁতারু না হলে অবশ্যই গভীর পানিতে নামবেন না। চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিক, ডাবের খোসা ইত্যাদি ময়লা আবর্জনা যেখানে যেখানে ফেলবেন না।

কিভাবে যাবেন? 

ঢাকা থেকে মৈনট ঘাট যাওয়ার দুইটি পথ আছে। একটি হলো সিএনজিতে মোহাম্মদপুর হয়ে বসিলা শহীদ বুদ্ধিজীবী সেতু পার হয়ে। অন্যটি হলো গুলিস্তান থেকে বাসে। 

মোহাম্মদপুর বেড়ীবাঁধ তিন রাস্তার মোড় থেকে সরাসরি মৈনটঘাটের সিএনজি পাওয়া যায়। জনপ্রতি ভাড়া ২০০ টাকা। বসিলা ব্রিজ পাড় হয়ে গ্রাম বাংলার মনমাতানো সৌন্দর্য দেখতে দেখতে মাত্র দুই ঘন্টায় পৌঁছে যাবেন মৈনটঘাটে। এপথে যানজটের কোনো বালাই নেই।

আবার গুলিস্তানের গোলাপ শাহের মাজারের সামনে থেকে সরাসরি মৈনট ঘাটের বাস পাওয়া যায়। নাম যমুনা পরিবহন। জনপ্রতি মাত্র ৯০ টাকায় আড়াই থেকে তিন ঘন্টার মধ্যে আপনি পৌঁছে যাবেন মৈনটঘাট। একই বাসে আপনি আবার ঢাকায় ফিরতে পারবেন। মৈনট থেকে যমুনা পরিবহনের শেষ বাসটি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় সন্ধ্যে ৬ টায়। এছাড়াও গুলিস্তান থেকে এন মল্লিক পরিবহন, নগর পরিবহন, জয়পাড়া পরিবহন ইত্যাদি বাসে মৈনটঘাট যাওয়া যায়। 

যারা গাবতলী অথবা সাভারের আশেপাশে থাকেন, তারা হেমায়েতপুর থেকে লোকাল সিএনজিতে সরাসরি নবাবগঞ্জ যেতে পারবেন। ভাড়া জনপ্রতি মাত্র ১২০ টাকা।

কোথায় খাবেন?

পদ্মার পাড়ে গিয়ে পদ্মার ইলিশ না খেলে কি চলে? ধোয়া উঠা গরম ভাতের সাথে কড়কড়ে ভাজা ইলিশ মাছ আর সাথে শুকনো মরিচ। আহা মন জুড়িয়ে যায়! আকারের উপর ভিত্তি করে ইলিশের টুকরোর দাম ৬০ টাকা থেকে ৯০ টাকা হয়ে থাকে। আর ভাতের প্লেট ১০ টাকা। নানা রকমের ভর্তাও পাওয়া যায় মিনি কক্সবাজারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ছোট বড় খাবার হোটেল গুলোতে। ইলিশ ছাড়াও নানা জাতের মাছ, শাকসবজি, গরু কিংবা মুরগির মাংসেরও ব্যবস্থা আছে। 

মৈনটে বেড়াতে এসে কার্তিকপুরের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি খেতে ভুলবেন না। নিরাঞ্জন মিষ্টান্ন ভান্ডার, মুসলিম সুইটস, রণজিৎ মিষ্টান্ন ভান্ডার সহ আরো কিছু মিষ্টির দোকান আছে এখানে। রসগোল্লার দাম হলো ১৫০ টাকা কেজি। ছানাগোল্লা প্রতিকেজি ১৮০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত হয়। চমচম ও কালোজাম ১৬০ টাকা কেজি। ছানা বালুশার দাম ১৪০ টাকা কেজি। রসমালাই ৩০০ টাকা, জিলাপি ১০০ টাকা এবং দই ১৪০ টাকা কেজি। এখানকার মিষ্টি বিদেশেও রপ্তানি করা হয়।

কোথায় থাকবেন?

অনেকেরই পদ্মা নদীর রাতের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য থেকে যেতে ইচ্ছে হতে পারে। যদিও থাকার জন্য মৈনট ঘাটে কোনো হোটেলের ব্যবস্থা নেই। তবে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে ফরিদপুর গ্রামে থাকার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

একটুখানি কেনাকাটা

পদ্মার পাড় থেকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য তাজা ইলিশ মাছের চেয়ে সেরা আর কি হতে পারে? মিষ্টিও কিনে নিয়ে যেতে পারেন এখান থেকে। মৈনট ঘাটে বিভিন্ন জিনিসপত্রের ছোটখাট একটা বাজারের মতো বসে। জামা কাপড়, শাড়ি, লুঙ্গি, গামছা, হাতে তৈরি নানান দ্রব্যসামগ্রী, বাঁশের বাঁশি, মাটির পুতুল, বেলুন। কি নেই এখানে? আপনার পছন্দ মতো যেকোনো কিছু কিনে মৈনটঘাটের স্মৃতি সঙ্গে নিয়ে ফিরে যেতে পারেন।

Leave a Comment

Our new website now under construction, It will coming soon. Do you like to get notify when the new version will be on live?

Subscribe for notifications.

You have successfully subscribed to the newsletter

There was an error while trying to send your request. Please try again.

Bangladesh Tourism Guide will use the information you provide on this form to be in touch with you and to provide updates and marketing.