খুলনা

সুন্দরবন

Written by admin

পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনভূমি সুন্দরবন হলো অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাক্ষেত্র। বন, নদী, সমুদ্র ও জীববৈচিত্রের এক অপূর্ব মিতালি গড়ে উঠেছে এখানে। দেশবিভাগের সময় সুবিশাল এই বনরাজ্যকে দুটি অংশে ভাগ করা হয়েছে। সুন্দরবনের ভারত অংশের নাম ‘সুন্দরবন জাতীয় উদ্যান’ এবং বাংলাদেশ অংশের নাম ‘সুন্দরবন’। আজ থেকে প্রায় ২০০ বছর আগেও বাংলাদেশের সুন্দরবনের মোট আয়তন ছিল ১৬৭০০ বর্গ কিলোমিটার। কিন্তু তা কমতে কমতে এখন এক-তৃতীয়াংশে এসে ঠেকেছে। বর্তমানে মোট ভূমির আয়তন ৪,১৪৩ বর্গ কিলোমিটার এবং নদী, খাঁড়ি ও খালসহ বাকি জলাধারের আয়তন ১,৮৭৪ বর্গ কিলোমিটার। সুন্দরী গাছের আধিক্যের কারণেই এই বনের নামকরণ করা হয়েছে সুন্দরবন। তবে সুন্দরী গাছ ছাড়াও গেওয়া, গরান, কেওড়া, গোলপাতার মত মোট ৩৩৪ প্রজাতির মিঠাপানি এবং লবণাক্ত পানির উদ্ভিদ রয়েছে এখানে। আর যেখানে উদ্ভিদ বেশি সেখানে পাখিকুলের রাজত্ব। সুন্দরবনে তাই প্রায় ৩২০ প্রজাতির পাখি দেখতে পাওয়া যায়। আর যার জন্য বিখ্যাত আমাদের এই সুন্দরবন ২০০৪ সালের হিসেব মতে সেই রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা ৫০০। যদিও দিন দিন এই সংখ্যা কমে আসছে। এছাড়াও সুন্দরবন হলো হরিণ, বুনো শুয়োর, গন্ডার, মহিষ, বানর, কুমির, কচ্ছপ, শুশুক সহ সুবিশাল জলচর, স্থলচর ও উভয়চর জীববৈচিত্রের আবাসস্থল। পুরো বন জুড়ে এঁকেবেঁকে বয়ে যাওয়া ছোটবড় খাল ও নদী পথে আমরা এই নিসর্গ ঘেরা বনরাজ্যের মন কাড়া আদিম বন্য সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারি।

কি দেখবেন?

জালের মত পরস্পর যুক্ত নৌপথের কারণে সুন্দরবনের প্রায় সব জায়গাতেই সহজে নৌকায় করে যাওয়া যায়। সুন্দরবনের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে ২টি বনবিভাগ, ৪টি প্রশাসনিক রেঞ্জ – চাঁদপাই, শরণখোলা, খুলনা ও বুড়িগোয়ালিনি এবং ১৬টি বন স্টেশন। বনটি আবার ৫৫ কম্পার্টমেন্ট এবং ৯টি ব্লকে বিভক্ত। সুন্দরবন ভ্রমণের জন্য অবশ্যই এইসব বন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের অনুমতি গ্রহণ করতে হবে। সুন্দরবনে নিম্নোক্ত দর্শনীয় স্থানগুলো রয়েছেঃ

করমজলঃ

মংলা সমুদ্র বন্দর থেকে মাত্র ২ থেকে ৩ ঘন্টার দূরত্বে করমজল পর্যটন কেন্দ্র অবস্থিত। ১৬ টি ফরেস্ট স্টেশনের একটি এখানে অবস্থিত। বন দেখার অনুমতি গ্রহণের ঝামেলা ও রাতের থাকার ঝক্কি এড়াতে চান যারা তাদের জন্য করমজল ভ্রমণ দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর মতো। কাঠের সাঁকো বরাবর হাটতে হাটতে নানা জাতের ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ এবং বন্য প্রানী যেমনঃ হরিণ, বানর, কুমির, হরেক রকম পাখপাখালি দেখা যায়। পশুর নদীর উত্তাল সৌন্দর্য ও শুশুকের খেলা চোখে পড়ে। করমজল হলো বাংলাদেশের একমাত্র কুমির প্রজনন কেন্দ্র। কুমিরের বাচ্চার উপযুক্ত বয়স হলে তাদেরকে নদীর পানিতে ছেঁড়ে দেয়া হয়। 

কটকাঃ

সুন্দরবনের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে মাংলা সমুদ্রবন্দর থেকে প্রায় ৯০ কি. মি. দূরে কটকা অবস্থিত। সু্ন্দরবনের পূর্ব অভয়ারণ্যের মধ্যে প্রধান কেন্দ্র এটি। কটকায় রয়েছে বনবিভাগের একটি রেস্ট হাউজ। সুন্দরবনের আসল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কাছ থেকে উপভোগ করা যায় কটকায় এসে। নৌকায় করে যাওয়ার সময় খালের দুই ধারে দেখা যায় অসংখ্য চিত্রা হরিণ মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এছাড়াও বানর, উদবিড়াল, বনমুরগি ও নানান ধরনের পাখির বিচরন দেখা যায়। মাঝে মাঝে রাজকীয় ভঙ্গিতে বাঘের চলার দৃশ্য ও গর্জন শোনা যায়। কটকার জামতলা পর্যবেক্ষণ  টাওয়ার থেকে দেখা যায় বন্য প্রানীর অপূর্ব সব দৃশ্য এবং বাঘের হরিণ শিকারের দৃশ্য যা পর্যটকদের আকৃষ্ট করে প্রতিনিয়ত। সমুদ্র সৈকত জুড়ে লাল কাঁকড়ার চাদর বিছানো থাকে। সন্ধ্যায় সমুদ্রের পানিতে কুসুমের মত সূর্যের ডুবে যাওয়ার মনমাতানো দৃশ্য দেখতে পাওয়া যায়। 

কচিখালিঃ

মাংলা থেকে প্রায় ১০০ কি. মি. দূরে অবস্থিত কচিখালি । সুন্দরবনের অন্যতম দর্শনীয় স্থান এই কচিখালি। কটকার জামতলা পর্যবেক্ষণ টাওয়ার থেকে কচিখালি সমুদ্র সৈকত হয়ে বন বিভাগের কচিখালি স্টেশন পর্যন্ত পায়ে হাটা পথ । এই পথের পাশে ঘন বন যেখানে দেখতে পাওয়া যায় বাঘ, হরিণ, বানর, বিষধর সাপ, শুকুর ইত্যাদি। এই পথে হাটার সময় কিছুটা ভয় ভয় মনে হতে পারে তবে সাহসী পর্যকদের প্রথম পছন্দ এই কচিখালি। কচিখালির প্রধান আর্কষণ সমূদ্র সৈকত। যে সৈকতের নিরিবিলি পরিবশে ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মুগ্ধ করবে যে কাউকে। এছাড়াও এই সৈকতে মাঝে মাঝে বাঘের বিচরনও লক্ষ করা যায়। যা পর্যটকদের সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করে।

হাড়বাড়িয়াঃ

করমজলের মতই স্বল্প দূরত্বে বনের স্বাদ গ্রহণের আরোও একটি স্থান হাড়বাড়িয়া পর্যটন কেন্দ্র। মংলা থেকে মাত্র ১২ কি. মি. দূরে চাঁদপাই রেঞ্জে এটি অবস্থিত। যার অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই এই স্থানটির প্রধান আর্কষণ। এখানে কাঠের তৈরী দুইটা ট্রেইলসহ গোলাঘর, যার একটি পুকুর  সংলগ্ন, ও কাঠের তৈরী পুল রয়েছে । এছাড়াও রয়েছে নানান প্রজাতির বন্য পশু পাখি ও উদ্ভিদের সমারোহ। দেশি পর্যটকদের জন্য ৭০ টাকা এবং বিদেশি পর্যটকদের ১০০০৳ প্রবেশমূল্য।

নীল কমল বা হীরনপয়েন্টঃ

মংলা থেকে প্রায় ১০০ কি.মি. দূরে অবস্থিত নীল কমল বা হীরনপয়েন্ট। এটি সুন্দরবন দক্ষিণ অভয়ারন্যের একটি বিখ্যাত প্রশাসনিক কেন্দ্র । এখানে সবচেয়ে বেশি হরিণ দেখতে পাওয়া যায়। এছাড়াও বাঘ, শুকুর, বানর, উদবিড়াল, বিভিন্ন প্রজাতির সাপ, নানা রকম পাখির ঝাঁক ইত্যাদির বিচরন লক্ষনীয়। নীল কমলের সামনে দিয়ে বয়ে গেছে একটি ছোট খাল। ১৯৯৭  খ্রিঃ ঘোষিত ৫২২ তম সুন্দরবন বিশ্ব ঐতিহ্যের ফলক এখানেই উম্মোচন করা হয়। এখানে রয়েছে বন বিভাগের একটি রেস্ট হাউস যেখানে দর্শনার্থীদের থাকার সু-ব্যবস্থা রয়েছে। হীরন পয়েন্টের কাঠের তৈরি সুন্দর রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে হরিণ, বানর, গুইসাপ ও কুমিরের দেখা পাওয়া যায়।

দুবলার চরঃ

সুন্দরবন এলাকার সর্ব দক্ষিণে অবস্থিত ছোট্ট একটি চর হচ্ছে দুবলার চর। দুবলার চরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া নদী গিয়ে মিশেছে বঙ্গোপসাগরে। বঙ্গোপসাগরের কোলে অবস্থিত এই দ্বীপটি মৎস্য আহরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের এক ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে পরিচিত । এখানে প্রতিবছর বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জেলেরা অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে ঘরবাড়ি তৈরি করে বসবাস করে এবং সাগরে মাছ ধরে এবং তা প্রক্রিয়াজাত করে বাজারে বিক্রি করে। সুন্দরবনের মৎস সম্পদ সম্পর্কে ধারনা পেতে চাইলে এই স্থানটি সর্বোৎকৃষ্ট স্থান। এছাড়াও এখানে রয়েছে একটি আকর্ষণীয় সমূদ্র সৈকত। এখানে প্রতি বছর নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাসে রাস পূর্ণিমায় রাস মেলা বসে। এই রাস মেলায় হাজার হাজার দেশী বিদেশেী পর্যটকের আগমন ঘটে।

মান্দার বাড়িয়াঃ

সুন্দরবনের দক্ষিণ-পশ্চিম কোনে এ অভয়ারণ্য অবস্থিত । এখানকার গভীর অরণ্যে ছোট ছোট ক্ষুদ্র জীব থেকে শুরু করে রয়েছ বাঘ, হরিণ, বন্যশুকুর, বানর, কুমির, কচ্ছপ, সাপ, কাকড়া ইত্যাদি। এছাড়াও এই স্থানের আরো একটি আর্কষণ হলো সাগরের বড় বড় ঢেউ। এখানে সমুদ্র সৈকতে আছড়ে পড়া বিশাল বিশাল ঢেউগুলো দেখতে সত্যি খুবই মনমুগ্ধকর। এছাড়াও প্রকৃতির অপূর্ব সৌন্দর্য ও জীব বৈচিত্রের প্রাচুর্য এ স্থানটি। মান্দারবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত এতটাই দুর্গম যে এর কিছুটা অংশ এখনো অনাবিষ্কৃত বলে মনে করা হয়।

কিভাবে যাবেন?

সুন্দরবন যেতে হলে প্রথমে ঢাকা থেকে স্থলপথ, জলপথ কিংবা রেলপথে খুলনা যেতে হবে। ঢাকা থেকে হানিফ, গ্রীন লাইন, ঈগল ইত্যাদি পরিবহন নিয়মিত ভোর ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত খুলনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। ননএসি বাসে জনপ্রতি ৪০০ টাকা থেকে ৬৫০ টাকায় এবং এসি বাসে জনপ্রতি ৬০০ টাকা থেকে ১৩০০ টাকায় মাত্র ৮ ঘন্টায় খুলনায় পৌঁছাতে পারবেন। ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে খুলনা যাবার বিভিন্ন কোম্পানির লঞ্চ রয়েছে। রেলপথে ট্রেনে চেপে খুলনা যেতে হলে সুন্দরবন এক্সপ্রেস বা চিত্রা এক্সপ্রেসে করে যেতে হবে। আসনের ধরণের উপর ভিত্তি করে জনপ্রতি টিকেট ভাড়া ৩৯০ টাকা থেকে ১৫৯৯ টাকা পর্যন্ত হয়। 

খুলনা থেকে সুন্দরবন দেখতে হলে শহর থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে মংলায় যেতে হবে। খুলনা থেকে মংলা যাওয়ার প্রাইভেট গাড়ি ও বাস রয়েছে। মংলা ঘাট থেকে ট্রলার কিংবা লঞ্চ ভাড়া নিয়ে সুন্দরবন বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখতে পারেন। তবে করমজল ছাড়া সবগুলো পর্যটন কেন্দ্রে যেতে বনবিভাগের অনুমতি গ্রহণ করতে হবে এবং সাথে একজন গাইড ও নিয়ে নিতে হবে।

খরচঃ

যাতায়াত খরচের বাইরেও সুন্দরবনের প্রতিটি এলাকায় পর্যটকদের জন্য আলাদা খরচ নির্ধারিত রয়েছে। অভয়ারণ্য এলাকায় দেশি পর্যটকদের জন্য প্রতিদিনের জনপ্রতি ভ্রমণ ফি – ১৫০ টাকা, ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য – ৩০ টাকা, বিদেশি পর্যটকদের জন্য ভ্রমণ ফি – ১৫০০ টাকা। অভয়ারণ্যের বাইরে দেশি পর্যটকদের ভ্রমণ ফি – ৭০ টাকা, ছাত্র-ছাত্রী- ২০ টাকা, বিদেশিদের জন্য ভ্রমণ ফি – ১০০০ টাকা ও গবেষকদের জন্য ভ্রমণ ফি – ৪০ টাকা। করমজলে দেশি পর্যটকদের জন্য ভ্রমণ ফি জনপ্রতি ২০ টাকা, বিদেশিদের জন্য ৩০০ টাকা। হেলিকপ্টার/সী প্লেনের জন্য এককালীন ফি লাগে ৩০ হাজার টাকা, নবায়ন করতে ফি দিতে হয় ১০ হাজার টাকা। ১০০ ফুটের ঊর্ধ্বে লঞ্চের জন্য দিতে হয় ১৫ হাজার টাকা, নবায়ন ফি দিতে হয় চার হাজার টাকা। ৫০ ফুট থেকে ১০০ ফুট লঞ্চের জন্য এককালীন ১০ হাজার টাকা দিতে হয় আর নবায়ন ফি লাগে তিন হাজার টাকা। ৫০ ফুটের নিচে নৌযানের জন্য সাড়ে সাত হাজার টাকা ও এদের জন্য নবায়ন ফি লাগে আড়াই হাজার টাকা। সাধারণ ট্রলার তিন হাজার টাকা ফি-তে সুন্দরবন অবস্থান করতে পারে, এদের নবায়ন ফি – ১৫০০ টাকা। স্পিডবোটের জন্য ফি দিতে হয় পাঁচ হাজার টাকা, নবায়ন করতে লাগে দুই হাজার টাকা। জালিবোট যেগুলো ট্যুরিস্ট বোট হিসাবে খ্যাত সেগুলোর জন্য এককালীন ফি দিতে হয় দুই হাজার টাকা ও নবায়ন ফি এক হাজার টাকা লাগে। বন বিভাগের ভ্রমণ ফি ছাড়াও অন্যান্য খরচের মধ্যে রয়েছে প্রতিদিন গাইডের জন্য ফি ৫০০ টাকা, নিরাপত্তা গার্ডদের জন্য ফি ৩০০ টাকা, লঞ্চের ক্রূর জন্য ফি ৭০ টাকা, টেলিকমিউনিকেশন ফি ২০০ টাকা। ভিডিও ক্যামেরা বাবদ দেশি পর্যটকদের ফি দিতে হয় ২০০ টাকা এবং বিদেশি পর্যটকদের ফি দিতে হয় ৩০০ টাকা। সুন্দরবনে রাস পূর্ণিমার সময় তীর্থযাত্রীদের ৩ দিনের জন্য জনপ্রতি ফি দিতে হয় ৫০ টাকা, নিবন্ধনকৃত ট্রলার ফি ২০০ টাকা, অনিবন্ধনকৃত ট্রলারের ফি ৮০০ টাকা এবং প্রতিদিন অবস্থানের জন্য ট্রলারের ফি ২০০ টাকা।

কি করবেন?

সুন্দরবন ভ্রমণ মানেই কেবল বাঘ দেখা নয়। আদিম এই বন্য সৌন্দর্য পরিপূর্ণভাবে উপভোগ করতে চাইলে কিছু কাজ আপনাকে নিশ্চয়ই করতে হবে। আর তা না হলে আপনি বনের আসল স্বাদ গ্রহণ করা থেকে বঞ্চিত থেকে যাবেন। 

১. সুন্দরবনে ভ্রমণে গেলে অবশ্যই ছোট দল নিয়ে যাওয়া উচিত। বেশি মানুষ মানেই হলো বেশি হইহুল্লোড়। আর সকল বন্য প্রাণীই যাবতীয় হট্টগোল এড়িয়ে চলতে ভালোবাসে। সুতরাং যত ছোট দলে যাবেন তত বেশি বন্য প্রাণীর দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

২. খুব ভোরে নদী ও খালের মধ্য দিয়ে নৌকা চড়ে বন দর্শন যেতে পারেন। এসময় অসংখ্য পাখপাখালির কিচিরমিচির শোনা যায়। খালের পাড়ে দলবেঁধে পানি পান করতে আসে বন্য জন্তু-জানোয়ার। ভাগ্য ভালো থাকলে পিপাসা মেটাতে আশা বাঘের দেখাও মিলতে পারে। 

৩. বনের মাঝখান দিয়ে হেঁটে যেতে পারেন। কটকা ও জামতলা সমুদ্র সৈকত পর্যন্ত যেতে পর্যটকদের পায়ে হেঁটে পৌঁছাতে হয়। এই ট্রেকিং এর মাধ্যমে জঙ্গলকে আপনি নতুন রূপে আবিষ্কার করতে পারবেন।

৪. সন্ধ্যায় বনের মধ্যে কোনো একটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ারের উপরে নিরবে বসে হরিণ কিংবা বুনো শুকরের দলবেঁধে ঘাস খেতে আসা দেখতে পারেন। এসময় হয়তো বাঘের শিকার করার দৃশ্যও চোখে পড়তে পারে।

৫. বনের মধ্যে রাত্রিযাপন করতে না পারলে সুন্দরবন ভ্রমণের বড়ো একটি অংশ অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। বনবিভাগের বিশ্রামাগার কিংবা ছোট ট্রলার ও ডিঙ্গি নৌকায় রাত কাটাতে পারেন। সুন্দরবনের রাতের আকাশে তারার রূপ এবং গা ছমছম করা অন্ধকারে গহীন অরণ্যের ভিতর থেকে হঠাৎ বুনো জন্তুর ডাকে সমস্ত শরীরে শিহরণ বয়ে যায়। কখনো আবার কাছেই কোথায় ভয়ংকর বাঘের গর্জন শোনা যায়। 

৬. সুন্দরবনের আশেপাশের গ্রামের বেড়াতে যেতে পারেন। জীবিকার তাগিদে বনের উপর নির্ভরশীল এসব গ্রামের মানুষজন প্রত্যেকে জীবন যুদ্ধের সাহসী সৈনিক। বাঘের হাতে প্রাণ হারানোর ভয় থাকা সত্ত্বেও জীবিকার তাগিদে তারা জঙ্গলের ভিতরে যায়। জীবনের একমাত্র ভরসা বনবিবি বা বনদেবী। আঞ্চলিক এসব মানুষদের সাথে কথা বললে জানতে পারবেন সুন্দর বন সম্পর্কে অংখ্য অজানা তথ্য।

কোথায় থাকবেন?

সুন্দরবনের টাইগার পয়েন্টের কচিখালী, হিরণপয়েন্টের নীলকমল এবং কটকায় বন বিভাগের রেস্টহাউজে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। এসব বিশ্রামাগারে থাকতে চাইলে দেশি পর্যটকদের প্রতি কক্ষের জন্য তিন হাজার টাকা লাগবে আর বিদেশিদের জন্য পাঁচ হাজার টাকা। 

বাগেরহাটে থাকার জন্য তেমন আবাসিক হোটেল ব্যবস্থা নেই। রেল রোডে মমতাজ হোটেলে সুযোগ সুবিধা কম থাকলেও সেবার মান তুলনামূলক ভাল, তবে খরচ একটু বেশি। মংলায় থাকার জন্যে পর্যটন কর্পোরেশনের হোটেল আছে। পশুর বন্দরে পর্যটকদের থাকার জন্য কিছু সাধারণ মানের হোটেল আছে।

সাতক্ষীরা শহরে থাকতে চাইলে এখানে কিছু সাধারণ মানের হোটেল পাওয়া যাবে। শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জে এনজিও সুশীলনের রেস্টহাউস ও ডরমেটরিতে রাত্রি যাপনের ব্যবস্থা রয়েছে।

খুলনা নগরীতে বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেলের মধ্যে হোটেল রয়েল, ক্যাসেল সালাম, হোটেল টাইগার গার্ডেন, হোটেল ওয়েস্ট ইন্, হোটেল সিটি ইন, হোটেল মিলিনিয়াম, সিএসএস হাউজ, হোটেল ক্যাসেল সালাম, প্লাটিনাম জুট মিলস লিঃ রেস্টহাউজ ইত্যাদি।

একটুখানি কেনাকাটা

ভ্রমণের আনন্দ আরেকটু খানি ভরপুর করতে বাঘের দেশ থেকে আপনি নিয়ে আসতে পারেন সুন্দরবনের খাঁটি চাকভাঙ্গা মধু। খুলনার বাগেরহাটে এই মধু পাওয়া যেতে পারে। তাছাড়া নানা জাতের মাছ কিংবা শুটকিও কিনতে পারেন। আপনি যদি শিল্পী মনোভাবাপন্ন মানুষ হয়ে থাকেন তাহলে ঘর সাজানোর জন্য স্থানীয় গ্রামবাসীদের হাতে বানানো নানা শিল্পকর্ম কিনতে পারেন স্মৃতি স্বরূপ। 

Leave a Comment

Our new website now under construction, It will coming soon. Do you like to get notify when the new version will be on live?

Subscribe for notifications.

You have successfully subscribed to the newsletter

There was an error while trying to send your request. Please try again.

Bangladesh Tourism Guide will use the information you provide on this form to be in touch with you and to provide updates and marketing.