BANDARBAN

বুদ্ধ ধাতু জাদি (স্বর্ণ মন্দির)

Written by admin

অপূর্ব নির্মাণ শৈলী ও আধুনিক ধর্মীয় স্থাপত্য নকশার নিদর্শন স্বরূপ প্রতিষ্ঠিত বুদ্ধ ধাতু জাদি বা স্বর্ণ মন্দির। এটি বাংলাদেশের বান্দরবান শহরের বালাঘাটা এলাকায় অবস্থিত। ধাতু বলতে কোন পবিত্র ব্যক্তির ব্যবহৃত বস্তুকে বোঝায়। এই বৌদ্ধ মন্দিরে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বুদ্ধ মূর্তি রয়েছে এবং এটি বাংলাদেশের সর্বাপেক্ষা বড় হীনযান বৌদ্ধ মন্দির। রক্ষণশীল প্রাচীন বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীদের হীনযান সম্প্রদায় বলা হয়ে থাকে। মন্দিরের অভ্যন্তরে আরোও ছোট ছোট বেশ কয়েকটি বৌদ্ধ মূর্তি ও ঘণ্টাধ্বনির মতোই ড্রাগন বেল রয়েছে।

আনুমানিক ২০০০ সালে দক্ষিণ পূর্ব এশীয় ধাঁচে বার্মা বা বর্তমান মায়ানমারের স্থাপত্যবিদের তত্ত্বাবধানে মন্দিরটি নির্মিত হয়। বুদ্ধ ধাতুটি একজন পবিত্র বুদ্ধের স্মারক স্বরুপ চারটি বুদ্ধমূর্তির সামনে স্থাপন করা হয়েছে। অন্যান্য বোদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস এটি মনের প্রশান্তি ও আনন্দের পরিবাহক। 

মন্দিরের ভিতরে একটি বৃহৎ মিউজিয়াম রয়েছে যেখানে দর্শনার্থীরা বুদ্ধ ধর্ম সম্পর্কে প্রচুর জ্ঞান লাভ করতে পারেন। এছাড়াও প্রতিবছর এখানে প্রচুর ধর্মীয় উৎসব অনুষ্ঠিত হয় যা  নয়নাভিরাম এবং উপভোগ্যও বটে। ঘন উঁচু পাহাড় আর বনের সন্নিবেশে গড়ে তোলা এই স্বর্ণ মন্দিরের মনোরম সৌন্দর্য দেখতে দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন দর্শনার্থীরা। এই পাহাড়ে একটি পুকুর আছে, নাম দেবতা পুকুর। দেবতা পুকুরটি সাড়ে ৩ শত ফুট উচ্চতায় হলেও সব মৌসুমেই পানি থাকে। বৌদ্ধ ভান্তেদের মতে, এটা দেবতার পুকুর তাই এখানে সব সময় পানি থাকে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি বান্দরবানের পর্যটন কেন্দ্র গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হল বুদ্ধ ধাতু জাদি কিয়াং। এই জাদিটি এখন কেবল বৌদ্ধ সমপ্রদায়ের তীর্থস্থানই নয় বরং দেশী বিদেশী পর্যটকদের জন্য অন্যতম আকর্ষনীয় স্পটে পরিণত হয়েছে। স্বর্ণমন্দির নামে পরিচিত পেলেও এটি সত্যিকার স্বর্ণ দ্বারা নির্মিত নয়। মূলত সোনালী রঙের জন্যেই এর নাম হয়েছে স্বর্ণমন্দির।

ভ্রমণবিধি

বৌদ্ধধর্মাবলম্বী ব্যতীত অন্যান্য ভ্রমনার্থীদের টিকিটের বিনিময়ে মন্দিরটি দর্শনের ব্যবস্থা রয়েছে। টিকিট মূল্য ৫০ টাকা। তবে মন্দিরের মূল অংশে অর্থাৎ যেখানে জাদিটি আছে সেখানে সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশ করতে দেয়া হয় না। সন্ধ্যা ছয়টার পরে মন্দিরে সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিষেধ। মন্দির চত্ত্বরে শর্টপ্যান্ট, লুঙ্গি এবং জুতা পায়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ। বোদ্ধাদের ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত হানে বা তাদের অসম্মান করা হয় এমন কোনো আচরণ করা থেকে বিরত থাকুন।

কিভাবে যাবেন 

স্বর্ণমন্দিরে যেতে হলে প্রথমে ঢাকা থেকে বান্দরবান আসতে হবে। ঢাকার থেকে এস. আলম, সৌদিয়া, সেন্টমার্টিন পরিবহন, ইউনিক, হানিফ, শ্যামলি, ডলফিন ইত্যাদি পরিবহনের বাস বান্দারবানের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। জনপ্রতি এসব বাসের ভাড়া যথাক্রমে নন এসি ৫৫০ টাকা ও এসি ৯৫০-১৫০০ টাকা। ঢাকা থেকে বাসে বান্দরবান যেতে সময় লাগে ৮-১০ ঘন্টা।

ট্রেনে যেতে চাইলে ঢাকা থেকে চট্রগ্রাম গামী সোনার বাংলা, সুবর্ণ এক্সপ্রেস, তূর্ণা নিশিতা, মহানগর গোধূলি এইসব ট্রেনে করে চট্রগ্রাম যেতে হবে। শ্রেনীভেদে ট্রেনের ভাড়া ৩৫০ থেকে ১২০০টাকা। এছাড়া ঢাকা থেকে আকাশ পথে সরাসরি চট্রগ্রাম আসা যায়।

চট্টগ্রামের বদ্দারহাট থেকে পূবালী ও পূর্বানী নামের দুটি বাস বান্দারবানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। জনপ্রতি ১২০ টাকা ভাড়া লাগে। চট্রগ্রামের ধামপাড়া বাস স্ট্যান্ড থেকে ২০০-৩০০ টাকা ভাড়ায় বাসে করে বান্দরবান আসতে পারেন। এরপর বান্দরবান বাস স্টেশন থেকে রিক্সা অথবা টেক্সি করে বুদ্ধ ধাতু জাদি বা স্বর্ণমন্দিরে যাওয়া যায়। রিক্সা ভাড়া ৩০-৩৫ টাকা এবং টেক্সি রিজার্ভ করে গেলে ভাড়া পড়বে ১০০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা। গাড়ি নিয়ে স্বর্ণমন্দির যেতে রাস্থায় আপনাকে ২০-৩০ টাকা টোল দিতে হবে।

কোথায় খাবেন?

ঢাকা থেকে বান্দরবান পৌঁছে আপনি বাসস্ট্যান্ড ও এর আশেপাশে কোথাও সকালের নাস্তা করে নিতে পারেন। বান্দরবান শহরে খাবার-দাবারের সুব্যবস্থা রয়েছে। বুদ্ধ ধাতু জাদি এর ভিতরে স্বর্ণ মন্দির ক্যান্টিন নামে একটি দোকান আছে যেখানে খাবার ব্যবস্থা আছে। এছাড়াও আশেপাশে অসংখ্য হোটেল ও রেস্তোরা রয়েছে। দুপুরের খাবারের জন্য চাইন্দা ক্যাফে, হিলপার্কি রেস্তোরা এন্ড বিরিয়ানি হাউজ, মেঘদূত ক্যাফে এন্ড রেস্টুরেন্ট, কাজি’স ডাইন, হিল ভিউ রেন্টুরেন্ট, রূপসী বাংলা রেন্টুরেন্ট, হোটেল গাউসিয়া ইত্যাদি খাবার স্থান বেঁছে নিতে পারেন। মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে তৈরি এসব রেস্তোরা গুলোতে সুস্বাদু খাবার পরিবেশন করা হয়।

কোথায় থাকবেন?

বান্দরবানে থাকার জন্যে প্রচুর হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ রয়েছে। বান্দরবান শহর ও তার আশেপাশেই হোটেল ও রিসোর্ট গুলোর অবস্থিত। বান্দরবান শহরের বাস স্ট্যান্ড এর পাশেই রয়েছে হোটেল হিল ভিউ ও হোটেল হিলটন। ভাড়া প্রতিরুম ৮০০ টাকা থেকে ২৫০০ টাকা। বাস স্ট্যান্ড থেকে ৫মিনিট হাঁটা দূরত্বে আছে হোটেল প্লাজা। ভাড়া ৬০০ থেকে ৩০০০ টাকা। সাঙ্গু নদীর তীর ঘেষে রিভার ভিউ হোটেল অবস্থিত। এর ভাড়া ৬০০ থেকে ২০০০ টাকা। পাহাড় ও লেকের পাশেই পর্যটন মোটেল রয়েছে। এগুলো শহর থেকে মাত্র ৪ কি:মি: দুরে মেঘলায় অবস্থিত। ভাড়া ১২০০ থেকে ২৫০০ টাকা।

একটুখানি কেনাকাটা

বুদ্ধ ধাতু জাদি বা স্বর্ণমন্দির এর আশেপাশে কিছু ছোটখাট দোকান রয়েছে। এখানে আদিবাসীদের জামাকাপড়, বাঁশ ও বেতের জিনিসপত্র, মন্দিরের আদলে তৈরি ছোট প্রতিকৃতি ও গৌতম বুদ্ধের ছোট ছোট মূর্তি পাওয়া যায়। আপনি চাইলে স্মৃতি চিহ্ন স্বরূপ যেকোনো কিছু কিনতে পারেন। 

Leave a Comment

Our new website now under construction, It will coming soon. Do you like to get notify when the new version will be on live?

Subscribe for notifications.

You have successfully subscribed to the newsletter

There was an error while trying to send your request. Please try again.

Bangladesh Tourism Guide will use the information you provide on this form to be in touch with you and to provide updates and marketing.