BANDARBAN

হিমছড়ি, কক্সবাজার

Written by admin

পাহাড়, ঝর্ণা, সমুদ্র যে স্থানে এসে পরস্পরের সাথে সখ্যতা গড়েছে তারই নাম হিমছড়ি। একপাশে বিশাল পাহাড় ও গাছপালায় ঘেরা সবুজের সমারোহ। আর ঠিক অপর পাশেই সুবিশাল বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউ আছড়ে পড়ে তার উপস্থিতির জানান দিচ্ছে। এই দুইয়ের ঠিক মাঝখান বরাবর এঁকেবেঁকে চলে গেছে অপূর্ব মেরিন ড্রাইভ সড়ক। 

কক্সবাজার থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হিমছড়িতে গবেষণা, শিক্ষণ, পর্যটন ও বিনোদন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে হিমছড়ি জাতীয় উদ্যান। চিরসবুজ ক্রান্তীয় বৃক্ষের বনাঞ্চল হিমছড়িতে রয়েছে প্রায় ১১৭ প্রজাতির উদ্ভিদ। এই অঞ্চলটিকে হাতির আবাসস্থল হিসেবে ধারণা করা হয়। এছাড়াও এ বনে উল্লুক, মায়া হরিণ, বন্য শুকর, বানর, সরীসৃপ, উভয়চর প্রাণী ও নানা জাতের পাখিরও দেখা মিলে। 

হিমছড়িতে ছোট বড় বেশ কয়েকটি প্রাকৃতিক ঝর্ণা বা প্রস্রবণ রয়েছে। তবে পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো এখানকার হিমছড়ি জলপ্রপাত। যদিও বর্ষা ছাড়া অন্যান্য মৌসুমে ঝর্ণাটি প্রায় শুষ্ক থাকে। উদ্যানের দুইশতাধিক সিঁড়ি ভেঙ্গে পাহাড়ের চুড়ায় উঠার পর দিগন্ত বিস্তৃত সমুদ্র ও সৈকতের অপরূপ নৈসর্গিক দৃশ্য দেখে মন প্রাণ জুড়িয়ে যায়।

কিভাবে যাবেন?

ঢাকা থেকে প্রথমে আপনাকে কক্সবাজার যেতে হবে। ঢাকা থেকে কক্সবাজারে দেশ ট্রাভেলস, এনা পরিবহন, শ্যামলী পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, রয়্যাল কোচ, সেন্ট মার্টিন পরিবহন, গ্রীন লাইন ইত্যাদি পরিবহন সেবা রয়েছে। নন এসি বাসের ক্ষেত্রে টিকেট খরচ জনপ্রতি ৭৫০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা এবং এসি বাস এর ক্ষেত্রে জনপ্রতি ১০০০ টাকা থেকে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

ঢাকা থেকে ট্রেনে কক্সবাজার যেতে চাইলে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে চট্টগ্রাম গিয়ে তারপর কক্সবাজার যেতে হবে। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর নতুন ব্রিজ থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে বাস ছেড়ে যায়। নন এসি বাসের ভাড়া ২৫০ টাকা মাত্র এবং এসি বাস এর ভাড়া ৩৫০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। 

ঢাকা থেকে বিমানে মাত্র ৪৫ মিনিটে কক্সবাজার যাওয়া যায়। নভো এয়ার, রিজেন্ট এয়ারওয়েজ, ইউনাইটেড এয়ার ওয়েজ ইত্যাদি প্রতিদিন ঢাকা থেকে কক্সবাজারে যাতায়াত করে। বিমানের ভাড়া ৬৫০০ টাকা থেকে ৮০০০ টাকা।

কক্সবাজারের ডলফিন মোড় বা সৈকত থেকে হিমছড়িতে যাওয়ার জন্য জীপ পাওয়া যাবে। জনপ্রতি ভাড়া ৭০ টাকা থেকে ১০০ টাকা। আপনি চাইলে গাড়ি রিজার্ভ করে যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে ভাড়া হবে ১৪০০ থেকে ১৬০০ টাকা। রিকশা কিংবা সিএনজি করেও হিমছড়ি যাওয়া যায়। ভাড়া লাগবে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা।

কোথায় খাবেন?

হিমছড়িতে খাওয়ার জন্য উন্নত মান সম্পন্ন হোটেল আছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো স্টোন ফরেস্ট রেস্টুরেন্ট। আপনি চাইলে কক্সবাজারেও খাওয়াদাওয়া করতে পারেন। কক্সবাজারের ডলফিন মোড়ে শালিক রেস্তোরাতে স্বল্পমূল্যে নান্দনিক পরিবেশে সুস্বাদু খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে কাসাব্লাঙ্কা বিচ ক্যাফে, বিচ প্ল্যানেট, মারমেইড ক্যাফে মেরিন ড্রাইভ, রুপসী বাংলা রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি।

কোথায় থাকবেন?

হিমছড়ি বা কক্সবাজারে রাত্রিযাপনের জন্য অসংখ্য রিসোর্ট ও হোটেল রয়েছে। বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন কর্তৃক পরিচালিত শৈবাল(যোগাযোগ: ০৩৪১-৬৩২৭৪) নামক একটি মোটেল আছে কক্সবাজারে। এছাড়াও কক্সবাজারের ইনানী সৈকতে আছে রয়্যাল টিউলিপ সী-পার্ল বীচ রিসোর্ট(যোগাযোগ: +৮৮০১৮৪৪০১৬০০১), কলাতলী সৈকতের হোটেল মোটেল জোনে রয়েছে সিগাল হোটেল(যোগাযোগ: ০৩৪১৬২৪৮০৯০, +৮৮০১৭৬৬৬৬৬৫৩০), ওসেন প্যারাডাইস হোটেল এন্ড রিসোর্ট(যোগাযোগ: +৮৮০১৯৩৮৮৪৬৭৬১), ডিভাইন ইকো রিসোর্ট(যোগাযোগ: +৮৮০১৮৪৪০১৬০০১) ইত্যাদি উন্নত মানসম্পন্ন রিসোর্ট আছে। কক্সবাজার বাংলাদেশের একটি বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র। তাই ঘুরতে যাওয়ার আগে হোটেলে যোগাযোগ করে অগ্রিম বুকিং দিয়ে রাখাই ভালো। 

একটুখানি কেনাকাটা

ভ্রমনের আনন্দকে পরিপূর্ণ করতে হালকা কেনাকাটা কিংবা বিশেষ স্মৃতি চিহ্ন সংগ্রহ করতে পারেন। হিমছড়িতে বেশ কিছু ছোট দোকান আছে। এখানকার আদিবাসীদের তৈরি হাতে বোনা পণ্য ও গৃহস্থালি সামগ্রী পাওয়া যায় এসব দোকানে। শামুক ও ঝিনুক দিয়ে তৈরি নানা রকম জিনিসপত্রও রয়েছে। কক্সবাজারের কলাতলী বীচ পয়েন্ট থেকেও শামুক ঝিনুকের খোলস, শঙ্খ, মালা, ঘরসাজানোর জিনিসপত্র, টুপি, জামা, জুতা ইত্যাদি কিনতে পারেন। এছাড়াও কক্সবাজার নানারকম শুটকির জন্য প্রসিদ্ধ। শুটকি খেতে ভালোবাসলে এখান থেকে শুটকি কিনে নিয়ে যেতে পারেন। চিংড়ি, কাঁকড়া, অক্টোপাস ভাজা খেয়ে দেখতে পারেন। সঙ্গে করে নিয়ে আসতে পারেন বিভিন্ন রকম সুস্বাদু আচার, চিপস কিংবা চকলেট।

Leave a Comment

Our new website now under construction, It will coming soon. Do you like to get notify when the new version will be on live?

Subscribe for notifications.

You have successfully subscribed to the newsletter

There was an error while trying to send your request. Please try again.

Bangladesh Tourism Guide will use the information you provide on this form to be in touch with you and to provide updates and marketing.