MOULVIBAZAR

পৃত্থিমপাশা জমিদার বাড়ি মসজিদ

Written by admin

বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায় জমিদারী শাসন ব্যবস্থার স্মৃতি বিজড়িত এক ঐতিহাসিক এবং অপূর্ব স্থাপনার নাম পৃত্থিমপাশা জমিদার বাড়ি। একসময় এই এলাকাটি ছিল ত্রিপুরা রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। এখানকার পাহাড়ি এলাকায় নওগা কুকি উপজাতির বেশ প্রতাপ ছিল। শ্রীহট্ট সদরে (বর্তমানে সিলেট) সেই সময় একজন কাজী ছিলেন যার নাম মোহাম্মদ আলী। ১৭৯২ সালে ইংরেজ শাসকদের পক্ষ হয়ে নওগা কুকিদের বিদ্রোহ দমনে মোহাম্মদ আলী আমজাদ খাঁন ভূমিকা রাখেন। ইংরেজ সরকার এতে খুশি হয়ে মোহাম্মদ আলীর পুত্র নবাব আলী আমজাদ খাঁনকে ১২০০ হাল বা ১৪,৪০০ বিঘা জমি দান করেন। তখনকার সময়ে বৃহত্তর সিলেটের মধ্যে সবচেয়ে স্বনামধন্য এবং প্রভাবশালী অন্যতম জমিদার ছিলেন নবাব আলী আমজাদ খাঁন। ঐ সময় পৃত্থিমপাশা জমিদার বাড়িতে ত্রিপুরার মহারাজা রাধা কিশোর মানিক্য বাহাদুরসহ বহু ইংরেজ এমনকি ইরানের রাজাও ভ্রমণ করে গেছেন। জমিদার বাড়ির ঐতিহ্য ধরে রাখতে আলী আমজাদ খাঁন মৌলভীবাজার ও কুলাউড়ায় বিভিন্ন স্কুল-কলেজ এবং সুপেয় পানির জন্য দীঘি খনন করেন।

পঞ্চদশ শতাব্দীতে সুদূর পারস্য থেকে ইসলাম প্রচারের জন্য পৃথিমপাশায় আসেন ইসমাইল খান ওরফে খান জাহান আলী। ধর্মীয় কাজে ব্যবহার করার জন্য নবাববাড়ির সামনে শান বাঁধানো বিশাল দীঘির পশ্চিম পাড়ে মুঘল ও পারস্যের স্থাপত্যের আদলে নির্মিত হয় পৃত্থিমপাশা জমিদারবাড়ি মসজিদটি। মৌলভীবাজার জেলা সদর থেকে মাত্র ৪৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নবাববাড়ির মসজিদটি শিয়া-সুন্নির সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের এক অনন্য নজির। প্রায় তিনশ’ বছর ধরে শিয়া-সুন্নি উভয় মাজহাবের অনুসারীরা একসঙ্গে নামাজ আদায় করেন এই মসজিদে। মূলত পৃত্থিমপাশা জমিদারবাড়ির সদস্যরা হলো শিয়া মতাবলম্বী। মহররমের দিন মসজিদকে কেন্দ্র করে কারবালার কাহিনি বর্ণনা, শোক মিছিল ও মাতম চলে। এজন্য এই মসজিদটিকে জমিদারবাড়ির ইমামবাড়াও বলা হয়। শিয়া মতাদর্শে নামাজ আদায় ছাড়াও নবাব পরিবারের পক্ষ থেকে এলাকার সংখ্যাগরিষ্ঠ সুন্নি মাজহাবের মানুষের নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এই মসজিদে। এখানে শিয়া-সুন্নি উভয় মাজহাবের দু’জন ইমাম নিয়োজিত রয়েছেন। তিন গম্বুজবেষ্টিত এই মসজিদটিতে রয়েছে নানান কারুকার্য ও শৈল্পিক নিদর্শনের ছোঁয়া।

কি দেখবেন?

মোঘল স্থাপনার আদলে চুনাপাথরে তৈরি এই মসজিদটির মনোরম স্থাপত্য শৈলী পরিদর্শনের পাশাপাশি আপনি পৃত্থিমপাশা জমিদারবাড়ি ঘুরে দেখতে পারেন। এছাড়াও মৌলভীবাজার জেলায় অন্যান্য ভ্রমণ উপযোগী স্থানগুলো হলোঃ মাধবকুন্ড জলপ্রপাত, মাধবপুর হ্রদ, হাকালুকি হাওর, লাউয়াছড়া ন্যাশনাল পার্ক, রেমা কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য,  হাইল হাওর, বাইক্কা বিল, কালা পাহাড় ইত্যাদি দর্শনীয় স্থান। একই সাথে নৈসর্গিক প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং স্মৃতি বিজরিত ঐতিহাসিক নিদর্শনের দেখা মিলে এই মৌলভীবাজারে।

কিভাবে যাবেন?

ঢাকা হতে মৌলভীবাজার জেলায় সড়ক পথে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন, এনা, পরিবহন, সিলেট এক্সপ্রেস, মৌলভীবাজার সিটি ইত্যাদি পরিবহন ঢাকা থেকে মৌলভীবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। নন এসি বাসের ভাড়া জনপ্রতি ৪০০ টাকা মাত্র। এবং এসি বাসের ভাড়া জনপ্রতি ৬০০ টাকা করে। 

ঢাকা হতে রেলপথে যেতে চাইলে শ্রীমঙ্গল পৌছে, শ্রীমঙ্গল হতে সড়ক পথে মৌলভীবাজার জেলায় আসা যায়। জয়ন্তিকা, উপবন, পারাবত, পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ইত্যাদি ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গল যায়। 

নৌ এবং আকাশ পথে ঢাকা হতে মৌলভীবাজার জেলায় সরাসরি পৌছাবার কোন ব্যবস্থা নেই। আকাশ পথে ঢাকা হতে সিলেট এসে, তারপর সিলেট হতে সড়ক পথে মৌলভীবাজারে আসা যায়। 

কোথায় খাবেন?

সিলেট জেলার বিখ্যাত খাবারের স্থান গুলোর একটি হলো পানসী রেন্টুরেন্ট, যা মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থিত। এছাড়াও এখানে আরও কিছু মানসম্পন্ন রেস্তোরা রয়েছে। যেমনঃ জিএফসি রেস্টুরেন্ট, স্মোকি উইন্ডো ক্যাফে এন্ড রেস্টুরেন্ট, টেনেসি রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি। মৌলভীবাজার চৌমহনীতে ম্যানেজার স্টল নামের একটি দোকান আছে যা মূলত একধরণের সাদা মিষ্টির জন্য বিখ্যাত। নিমকি আর সিঙ্গারার সাথে এই মিষ্টি খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু লাগে।

কোথায় থাকবেন?

মৌলভীবাজার জেলায় বেশকিছু উন্নত মানসম্পন্ন হোটেল রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোঃ টি ভিলা লাক্সারি রিসোর্ট(যোগাযোগ: ০১৭১৬৮৩৩৬৩৩), দুসাই রিসোর্ট এন্ড স্পা(যোগাযোগ: ০১৬১৭০০৫৫১১), রাঙ্গাউটি রিসোর্ট(যোগাযোগ: ০১৯৬৬১১০০০০), রেস্ট ইন হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট(যোগাযোগ: ০১৭১৯৩৩৩৫৫৫), হোটেল ওয়েস্টার্ন প্লাজা(যোগাযোগ: ০১৭১২১৫০৬৫০) ইত্যাদি। সুপরিচ্ছন্ন পরিবেশে এবং স্বল্পমূল্যে রাত্রিযাপনের জন্য এই হোটেল গুলো অতুলনীয়।

একটুখানি কেনাকাটা!

বাংলাদেশের চায়ের রাজধানী হিসেবে বিখ্যাত শ্রীমঙ্গল। এটি মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থিত। সুতরাং চায়ের রাজধানী থেকে আপনি কিনতে পারেন চা পাতা। স্বাদ ও গন্ধে এই চা পাতায় তৈরি চা একেবারে অনন্য। এছাড়াও মৌলভীবাজারের আনারসও অতুলনীয় স্বাদের একটি ফল। প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য এই জেলায় নানা জাতের ফলমূল পাওয়া যায়। 

Leave a Comment

Our new website now under construction, It will coming soon. Do you like to get notify when the new version will be on live?

Subscribe for notifications.

You have successfully subscribed to the newsletter

There was an error while trying to send your request. Please try again.

Bangladesh Tourism Guide will use the information you provide on this form to be in touch with you and to provide updates and marketing.